বালুরঘাট(Balurghat) উত্তরবঙ্গের একটি ছোট্ট প্রান্তিক জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরের মহকুমা শহর। ১৯৯২ সালের ১ এপ্রিল পূর্বতন পশ্চিম দিনাজপুর জেলা দ্বিবিভক্ত হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সৃষ্টি হয়।
পরিচয়ঃ
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার  সদর শহর বালুর ঘাট। জেলার দুটি মহকুমার একটি হল বালুরঘাট এবং অপরটি গঙ্গারাম পুর। এই জেলার ৮টি থানার মধ্যে বালুর ঘাট একটি।এই থানটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৬ সালে।  এই বালুরঘাট থানার অন্তর্গত স্থান গুলি হল বোল্লা, জলঘর, চকভৃগু, বোয়ালদাড়, ভাটপাড়া, ডাঙ্গা, পতিরাম, নাজিরপুর, গোপালবাটি, অমৃত খণ্ড, চিঙ্গিসপুর, চককাশি, খাসপুর, ভুশিলা, হাজিপুর, ঠাকুর পুরা, কামাড় পাড়া এবং আমরাইল।
 বালুর ঘাট একসময় ছিল প্রাচীন পৌণ্ড্র রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং কোটি বর্ষ বিষয়ের একটি সমৃদ্ধ জনপদ। প্রাচীন বাংলার অন্যতম বিখ্যাত ধান্যগোলা পুণ্যতোয়া বৈদিক নদী আত্রেয়ির বামন তটবর্তী সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র। পূর্বে বালুরঘাট ছিল পতিরাম থানার অধীন বিরল বিচ্ছিন্ন বসতি সমন্বিত একটি সমৃদ্ধ নদী বন্দর।  
নামকরণঃ
বহুদিন আগে পরিত্যক্ত প্রাচীন নদী ঘাট সহ আত্রেয়ি তীরে বাড়িয়া কালি  ও ঘট কালি তলা ছিল।এই নদীর তীরে ছিল তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান। কোম্পানির আমল থেকে বাংলার নবজাগরণ ও স্বাধীনতার পূর্বকাল পর্যন্ত আত্রাই তটভুমি ছিল সংস্কার আন্দোলনের মূলভুমি। আত্রেয়ির গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়া কালি ও ঘাটকালি  ঘাট পরিত্যক্ত হয়ে বুড়া কালী তলাতে সরে আসে। এবং কালীর থানের ও পরিবর্তন ঘটে। বাড়িয়া কালী >বয়ড়া কালী > বুরা কালী। স্থান নামটি আরও পরিবর্তিত হয়ে বালুরঘাট হয়।
সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত কাব্যে রামাবতীর কিছু দূরে 'বিপুলাতটা' বলে একটি স্থানের উল্লেখ আছে। ঐতিহাসিক নগেন্দ্র নাথ বসুর মতে এই অঞ্চলটি আত্রায় নদীর তীরে
  অবস্থিত এবং এই বিপুলাতটার তীরে ঐ জলাশয়ের  পরিবর্তিত নামই হল বালুরঘাট।