বিধান সভা সম্পর্কে আমরা কম বেশী অনেকেই জানি। কিন্তু বিধান পরিষদ (Vidhan Parishad) সম্পর্কে অনেকেরই বিশেষ জানা নেই। আজ আমারা জেনে নেব বিধান পরিষদ কী।
রাজ্য আইন সভার জনপ্রতিনিধি কক্ষের (নিম্ন কক্ষ) নাম বিধান সভা বা Legislative Assembly বিধানসভার সদস্য গণ জনগনের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত হন। যে সমস্ত অঙ্গ রাজ্যের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইন সভা আছে সেখানে উচ্চ কক্ষকে বিধান পরিষদ বা Legislative Council বলা হয়।
সংবিধানের ১৭১ নম্বর ধারা অনুসারে বিধান পরিষদের সদস্য সংখ্যা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধান সভার সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশের বেশী হবেনা। অর্থাৎ পশ্চিম বঙ্গে যদি বিধান পরিষদ গঠন হয় তাহলে সেখানে মোট সদস্য সংখ্যা হতে পারবে সর্বাধিক ৯৮ জন। কারণ পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার সদস্য সংখ্যা ২৯৪ জন। পশ্চিম বঙ্গে ১৯৫২ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত বিধানপরিষদ ছিল। আসন সংখ্যা ছিল ৯৮ বর্তমানে সারা ভারতে মোট ৬ টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। রাজ্যগুলি হল- অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাস্ট্র, তেলেঙ্গানা, উত্তর প্রদেশ।
রাজ্য বিধানপরিষদ নির্বাচিত ও মনোনীত - এই দুই ধরনের সদস্য নিয়ে গঠিত। সাধারনত বিধানপরিষদের ছয়ভাগের পাঁচ ভাগ সদস্য পরোক্ষ ভাবে নির্বাচিত হন এবং অবশিষ্ট একভাগ সদস্য রাজ্যপাল কতৃক মনোনীত হন। অর্থাৎ কোন রাজ্য বিধানপরিষদে যদি মোট সদস্য সংখ্যা ৯৬ হয় তাহলে নির্বাচিত হবেন ৮০ জন এবং মনোনীত হবেন ১৬ জন।
বিধানপরিষদে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা কী
সংবিধানের ১৭৩ নম্বর ধারায় বিধানপরিষদের সদস্যদের যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বিধান পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থীকে -
১। অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
২। কম পক্ষে ৩০ বছর বয়সী হতে হবে।
৩। দেউলিয়া, বিকৃত মস্তিস্ক বা সরকারি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত কোন ব্যক্তি বিধান পরিষদের সদস্য হতে পারবেন না।
বিধানপরিষদ কি মন্ত্রিসভাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে?
রাজ্যের শাসনবিভাগ মন্ত্রীসভাকে নিয়ন্ত্রন করার কোন ক্ষমতা রাজ্য বিধান পরিষদের হাতে দেওয়া হয়নি। সনবিধান অনুসারে রাজ্য মন্ত্রীসভা শুধুমাত্র রাজ্য বিধান সভার কাছে দায়বদ্ধ। অবশ্য বিধান পরিষদের হাতে দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব উত্থাপন, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও সমালোচনার ক্ষমতা রয়েছে।
সীমাবদ্ধতা- সাদা হাতি পোষা
বিধানসভার পাশাপাশি বিধান পরিষদ থাকাকে অনেকে সাদা হাতি পোষার সঙ্গে তুলনা করেন। কারণ হিসেবে তারা দাবী করেন বিধানসভায় যে দল সংখ্যা গরিষ্ঠ তারাই যদি বিধানপরিষদে গরিষ্ঠ হয় তাহলে বিধানপরিষদ সরকারের কোন কাজে এমনকি ন্যহ্য যুক্তিতেও বাধা দিতে পারেনা। আর বিরোধী পক্ষ বিধান পরিষদে গরিষ্ঠ হয় তবে তারা অন্যায্য যুক্তিতেও বাধা দিয়ে সরকারের কাজে তথা উন্নয়নের কাজে বাধা দিতে পারে। তাই ১৯৬৯ সালে যখন পশ্চিম বঙ্গে আইন করে বিধান সভা তুলে দেওয়া হয় তখন সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের সকলে একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কেউ সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই প্রসঙ্গে সেদিন বলেছিলেন " দক্ষ সার্জেন হিসেবে যতীন চক্রবর্তী আপেন্ডিক্স( বিধানপরিষদ) অপারেশন শুরু করেছেন। সহকারি হিসেবে আমি তাতে সাহায্য করেছি। " প্রসঙ্গত এই বিধানপরিষদ বিলুপ্তির প্রস্তাব এনেছিলেন তৎকালীন যুক্তফ্রন্টের পক্ষে যতীন চক্রবর্তী এবং সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন কংগ্রেসের সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়।
0 Comments